রেগুলেটর

ভূমিকাঃ

আসছে গরম কাল। গরম কালের শুরুতে রাতের প্রথম প্রহরে বেশ গরম অনুভূত হয় কিন্তু রাতের শেষ প্রহরে পরিবেশ বেশ ঠান্ডা হয়ে আসে ফলে বৈদ্যূতিক পাখার বাতাস বেশী ঠান্ডা লাগে যা বিরক্তির কারণ। কখনো কখনো এই ঠান্ডা বাতাস শর্দির কারণ হতে পারে, তাই বৈদ্যূতিক পাখার গতি সীমিত রাখার প্রয়োজন হয়। বৈদ্যূতিক পাখার গতি সীমিত রাখতে আমরা যে ডিভাইসটি ব্যবহার করি তা হলো রেগুলেটর। পূর্বের দিনগুলিতে যে রেগুলেটরসমূহ ব্যবহার হতো তা ছিল ওজনে বেশ ভারি এবং আকারে বেশ বড়। এগুলিকে বলে চোক কয়েল রেগুলেটর। বর্তমান সময়ে এই ধরণের রেগুলেটর ব্যবহার হয় না। তার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য করণ হলো সেগুলি ছিল দামের দিক দিয়ে বেশ ব্যয়বহুল। বর্তমান সময়ে বেশ ছোট আকৃতির হালকা রেগুলেটর ব্যবহার করা হয়। এগুলি দামে বেশ সস্তা এবং এগুলিকে বলা হয় ইলেকট্রনিক রেগুলেটর। পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে নিত্য নতুন সেমিকন্ডাকটর কম্পোনেন্ট আবিস্কার এবং এর প্রয়োগ ক্ষেত্র বৃদ্ধি পবার কারণে এই ধরণের ডিভাইসগুলির জন্ম। যাই হোক তা আমাদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। আজ আমরা এমনই একটি ইলেকট্রনিক রেগুলেটরের মূলনীতি, গঠন কৌশল ও ব্যবহার শিখব।

রেগুলেটর কি?

Reg·u·la·tor – এর অর্থ কোন ব্যাক্তি বা বস্তু যা কোন কিছুর বিশেষ বৈশিষ্টকে নিয়ন্ত্রন করে। এটি একটি সাধারণ সজ্ঞা, এর অর্থ ব্যপক। আমরা যেহেতু বৈদ্যূতিক ডিভাইস নিয়ে আলোচনা করছি তাহলে আমরা ডিভাইসের সাথে সংগতিপূর্ণ সজ্ঞাটি শিখব। রেগুলেটর এমন একটি বৈদ্যূতিক ডিভাইস যা অপর কোন বৈদ্যূতিক ডিভাইসের বৈশিষ্টকে নিয়ন্ত্রন করে। এখানে আলোচ্য ডিভাইসটি বৈদ্যূতিক পাখার ঘূর্ণন গতিকে নিয়ন্ত্রন করে বিধায় একে রেগুলেটর বলা হয়।

কার্যনীতিঃ

আলোচ্য বৈদ্যূতিক রেগুলেটরের প্রধান উপাদান একটি ট্রায়াক। এই ট্রায়াকের মাধ্যমে সরবরাহ এসি ভোল্টেজ ওয়েভের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে লোডে পাওয়ার সরবরাহ করা হয়। ফলে সম্পূর্ণ সাইকেল অর্থাত ৩৬০ ডিগ্রী সময় জুড়ে লোডে পাওয়ার সরবরাহ হয় না বরং তার চেয়ে কিছু কম সময় ধরে লোডে পাওয়ার সরবরাহ হয়। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে লোডে সরবরাহকৃত গড় পাওয়ার কমে যায় এবং বৈদ্যূতিক পাখার গতি কমে আসে। বিষয়টি একটি চিত্রের সাহায্যে বুঝি।

WS

উপরোক্ত চিত্রের রেগুলেটর বিহীন ওয়েভসেপে দেখা যাচ্ছে পূর্ণ ৩৬০ ডিগ্রী সময় জুড়ে লোডে পাওয়ার সরবরাহ আছে, এরূপ হলে লোডটি পূর্ণ গতিতে ঘুরবে। আবার রেগুলেটেড ওয়েভসেপে দেখা যায় কিছু সময় লোডে পাওয়ার সরবরাহ থাকে এবং কিছু সময় লোডে পাওয়ার সরবরাহ বন্ধ থাকে। এর ফলে লোডে সরবরাহকৃত গড় পাওয়ার কমে যায় এবং বৈদ্যূতিক পাখার গতি কমে আসে।

স্ক্যামিটিক ডায়াগ্রামঃ

Drawing11সার্কিটের কার্যপ্রণালীঃ

উপরোক্ত স্ক্যমিটিক ডায়াগ্রামটি একটি ইলেকট্রনিক রেগুলেটরের ডায়াগ্রাম। এই সার্কিটের মূল উপাদান হিসাবে রয়েছে একটি TRIAC যার নাম্বার BT136, এর মাধ্যমে লোডে নিয়ন্ত্রিত ভোল্টেজ সরবরাহ হয়ে থাকে। রেজিস্টর R2, পটেনশিওমিটার POT, ক্যাপাসিটর C2 এর সমন্বয়ে একটি কন্ট্রোলিং সার্কিট এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন C2 ক্যাপাসিটরটি ট্রায়াকের ট্রিগারিং ভোল্টেজের সম ভোল্টেজে চার্জ হতে পারে। ক্যাপাসিটরের চার্জিত ভোল্টেজকে একটি ডায়াকের মাধ্যমে ট্রায়াকের গেটে ট্রিগার পালস প্রদান করা হয়। ফলে তা লোডের মধ্য দিয়ে কারেন্ট সরবরাহ করে। পটেনশিওমিটারের রেজিস্ট্যান্সের মান পরিবর্তন করে উক্ত C2 ক্যাপাসিটরটির চার্জিং পিরিওড কম/বেশী করা যায়। POT এর রেজিস্ট্যান্স খুব কম হলে C2 ক্যাপাসিটরটি দ্রুত চার্জ হয় ফলে ট্রায়াকের ট্রিগারিং পিরিওড বেড়ে যায় এবং লোডে বেশী সময় পাওয়ার সরবরাহ হয়, এ অবস্থায় বৈদ্যূতিক পাখা দ্রুত ঘোরে। POT এর রেজিস্ট্যান্স খুব বেশী হলে C2 ক্যাপাসিটরটি ধীরে চার্জ হয় ফলে ট্রায়াকের ট্রিগারিং পিরিওড কমে যায় এবং লোডে সরবরাহকৃত পাওয়ারের অফ পিরিওড বেড়ে যায়, এ অবস্থায় বৈদ্যূতিক পাখা ধীরে ঘোরে । ক্যাপাসিটর C1, রেজিস্টর R1 এবং ইন্ডাকটর L এই তিনটি ডিভাইস সিগনালের ডিসটোরশন রোধ করতে সাহায্য করে। L ইন্ডাকটরটি তৈরী করতে হলে একটি ২ ইঞ্চি লম্বা ফেরিট রডের উপরে ২৪ SWG তার ১০০ টি প্যাচ দিলেই হবে। সার্কিটে চিহ্নিত a এবং b প্রান্ত দুটি রেগুলেটরের দুই সংযোগ প্রান্ত হিসাবে চিহ্নিত। ক্যাপাসিটরের মান ০.১µF যার EIA Code হলো ১০৪।

কম্পোনেন্টের তালিকাঃ

Drawingfgf1

বৈশিষ্টঃ

১। ইহা একটি ইলেকট্রনিক রেগুলেটর।

২। ইহা মূলতঃ টাইম রেগুলেশনের মাধ্যমে আউটপুট পাওয়ার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

৩। আলোচ্য রেগুলেটরটি ৮০ থেকে ১২০ ওয়াট লোডের জন্য নিরাপদ।

৪। রেগুলেটরটি ২২০ ভোল্ট ৫০ হার্জের সরবরাহে ভাল কাজ করবে।

৫। এই রেগুলেটরটি ফুল স্পীডের তুলনায় রেগুলেটেড স্পীডে কম পাওয়ার খরচ করে।

সুবিধাঃ

১। ওজনে হালকা, আকারে ছোট, সহজে বহন যোগ্য।

২। খুব বেশী তাপ উৎপন্ন করেনা।

৩। শক্ত লিভারের থকেনা তাই সহজেই আলতো ভাবে নব ঘুরিয়ে গতি পরিবর্তন করা যায়।

৪। পাঁচটি নির্ধারিত গতির পরিবর্তে ইচ্ছানুযায়ী যে কোন গতিতে স্থির করা যায়।

৫। ইলেকট্রনিক রেগুলেটর শব্দবিহীন কাজ করে পক্ষন্তরে পূর্বের দিনে ব্যবহৃত চোক কয়েল রেগুলেটরসমূহে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পি-পি শব্দ করতো।

অসুবিধাঃ

১। এই ধরণের ইলেকট্রনিক রেগুলেটরের মাধ্যমে লোডে পিওর সাইনুসইডাল ওয়েভ সরবরাহ হয় না, ফলে লোড কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

২। রেগুলেটর শব্দবিহীন কাজ করলেও রেগুলেডেট স্পীডে অনেক সময় বৈদ্যূতিক পাখার মধ্যে ঝি-ঝি, পি-পি শব্দ সৃষ্টি হয়। ফলে ঘুমের ব্যঘাত ঘটে।

সাবধানতাঃ

১। যাদের বয়স ১৮ বছরের কম তারা এই প্রোজেক্টটি তৈরীর চেষ্টা করবেন না।

২। কেবল মাত্র অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং ইলেকট্রনিক্সের শিক্ষার্থীরা তৈরীর চেষ্টা করবেন।

৩। রেগুলেটর সার্কিটটি একটি অপরিবাহী মোড়কের মধ্যে আবদ্ধ রাখুন নতুবা মারাত্নক বৈদ্যূতিক শকের সম্ভবনা রয়েছে।

ধন্যবাদ শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য।

Share this post

One thought on “রেগুলেটর

Post Comment